ছবিঃ সংগৃহীত
সোমবার এশিয়ার পুঁজিবাজারগুলোতে দেখা গেছে মিশ্র চিত্র; গত সপ্তাহের দরপতনের ধাক্কা সামলে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে বাজার।
শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়ের হতাশাজনক প্রতিবেদন বিনিয়োগকারীদের দুশ্চিন্তা বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেও চোখ রাখছেন তাঁরা।
বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আবার যুদ্ধে না গিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সংকট মেটাতে আগ্রহী—এমন এক প্রতিবেদন প্রকাশের পর তেলের দাম নেমে আসায় বাজারে খানিকটা স্বস্তি ফিরেছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে ফের বিক্রির চাপ দেখা দিয়েছে। ওয়াল স্ট্রিটের বড় প্রতিষ্ঠান অ্যামাজন, অ্যালফাবেট ও মাইক্রোসফট ইঙ্গিত দিয়েছে, ডেটা সেন্টার ও চিপ খাতে তাদের বিপুল বিনিয়োগ চলতে থাকবে।
বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন, অ্যামাজন, অ্যালফাবেট, মাইক্রোসফট ও মেটা চলতি বছর মূলধনী বিনিয়োগে ৭০০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করতে পারে, যার বড় অংশ যাবে এআই অবকাঠামো গড়ে তোলায়।
ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ মৌসুমে এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচকভুক্ত সফটওয়্যার কোম্পানিগুলোর ৯০ শতাংশ মুনাফার পূর্বাভাস ছাপিয়ে গেছে, কিন্তু বিক্রির আয়ে প্রত্যাশা পূরণ করতে পেরেছে মাত্র ৭০ শতাংশ।
আগের তিন মাসে অবশ্য সব প্রতিষ্ঠানই মুনাফার পূর্বাভাস ছাড়িয়েছিল, আর বিক্রির আয়েও প্রত্যাশা ছাপিয়েছিল ৮০ শতাংশের বেশি প্রতিষ্ঠান।
এ সপ্তাহে আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে অ্যাপল, অ্যাডভান্সড মাইক্রো ডিভাইসেস (এএমডি) ও সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান পালান্টির।
নিউইয়র্কের পুঁজিবাজারে বড় দরপতনে নাসডাক সূচক প্রায় ৩ শতাংশ কমে সপ্তাহ শেষ করে। নতুন সপ্তাহের শুরুতেও চাপের মধ্যে আছে এশিয়ার প্রযুক্তি শেয়ারগুলো।
প্রত্যাশার চেয়ে দুর্বল ব্যবসায়িক পূর্বাভাস দেওয়ায় জাপানের চিপ নির্মাতা কিওক্সিয়ার শেয়ারদর ১৫ শতাংশের বেশি পড়ে গেছে।
দক্ষিণ কোরিয়ার স্যামসাংয়ের শেয়ারও ১ শতাংশের বেশি কমেছে, যদিও এর প্রতিদ্বন্দ্বী এসকে হাইনিক্সের শেয়ার বেড়েছে ১ শতাংশের বেশি। তাইওয়ানের টিএসএমসির শেয়ারদর বেড়েছে প্রায় ২ শতাংশ।
প্রযুক্তি খাতের এই মিশ্র ধারার প্রভাব পড়েছে সামগ্রিক বাজারেও। টোকিও, সিডনি, সিঙ্গাপুর ও তাইপের শেয়ারবাজারে দরপতন হয়েছে, তবে সিউল, হংকং ও সাংহাইয়ে সূচক বেড়েছে।
ইরান সংকটের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা দেখা দেওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি কমেছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যেতে চান, আর এতে হতাশ হয়েছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, সম্ভাব্য নতুন আলোচনা নিয়ে ইরানের জাতীয় নিরাপত্তাপ্রধান মোহসেন রেজায়িকে চিঠি পাঠিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। কয়েক মাসের মধ্যে এটিই দুই দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের যোগাযোগের উদ্যোগ।
ফরেক্স ডটকমের বিশ্লেষক রাজান হিলালের মতে, ‘ইসরাইলের নির্বাচনের পর অচলাবস্থা তৈরি হলেও কাতার ও আঞ্চলিক মিত্রদের জোরদার মধ্যস্থতার ফলে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনা বাড়তে পারে।’
তবে এক সমাবেশে ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান এখনো শেষ করিনি। এর একমাত্র কারণ হলো, আমি সদয় হতে চাই। সম্ভব হলে আমি এসব মানুষের জীবন বাঁচানোর চেষ্টা করতে চাই। কিন্তু একপর্যায়ে আমাদের তাদের ওপর কঠোর আঘাত হানতে হবে।’
অন্যদিকে গত সপ্তাহান্তে ইরানের সেনাবাহিনীর মুখপাত্র মোহাম্মদ আকরামিনি বলেছেন, নতুন করে যুদ্ধ বাধলে তা আগের দফার সংঘাতের চেয়েও দীর্ঘ হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের দিকেও সতর্ক দৃষ্টি রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। জনমত জরিপ ডেমোক্র্যাটদের বড় জয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে চাওয়া দলটি সফল হলে ট্রাম্পের ক্ষমতা প্রয়োগে প্রথম বড় রাজনৈতিক বাধা তৈরি হতে পারে।
জরিপের হিসাবে, মঙ্গলবারের নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকানদের হাত থেকে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ছিনিয়ে নেওয়ার প্রায় নিশ্চিত অবস্থানে আছে ডেমোক্র্যাটরা। সিনেটেও সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়ার সুযোগ রয়েছে দলটির।